• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

সৈয়দপুরে পশুর ভেজাল খাদ্য ও ওষুধ তৈরির কারখানা আবিস্কার

IMG_20160829_210151সিসি নিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের আতিয়ার কলোনীর আপন ভিলা নামক একটি বাসায় মাকর্স এগ্রোভিট নামে পশুর ভেজাল খাদ্য ও ওষুধ তৈরির কারখানা আবিস্কার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার বেলা ২টায় সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মো. মুসা জঙ্গী এর নেতৃত্বে পুলিশ ওই অভিযান পরিচালনা করে।

সূত্র মতে, আসছে ঈদে গরু মোটাতাজাকরণ সহ পশুর ভেজাল খাদ্য ও ওষুধ তৈরি করার গোপন সংবাদ পায় সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মো. মূসা জঙ্গীকে অবগত করেন। এরপর ওই কর্মকর্তা পুলিশ প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আজ সোমবার দুপুরে সৈয়দপুর শহরের আতিয়ার কলোনীর গোল চত্ত্বর এলাকায় আপন ভিলা তল্লাশী করেন। সেখানে বিপুল পরিমানে পশুর ভেজাল খাদ্য ও ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ, নেবেল পাওয়া যায়। এ সময় ভেজাল কারখানার মালিক সন্দীপ কুমার বিশ্বাসকে পাওয়া যায়নি। তবে দু’জন কর্মচারীকে আটক করা হয়।

সূত্র মতে, ২০১০ সালের ৬ জুলাই ৭শ’ টাকার বিনিময়ে নয়াটোলার মৃত মহাদেব কুমার বিশ্বাসের পুত্র সন্দীপ কুমার বিশ্বাস সৈয়দপুর পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সৈয়দপুর থেকে এ ব্যবসার জন্য অনুমতি নেয়। পৌরসভার ট্রেড় লাইসেন্সটির মেয়াদ গত ২০১১ সালের ৩০ জুন শেষ হয়ে যায়। লাইসেন্স প্রাপ্তির পরেই আতিয়ার কলোনীর রেল কর্মচারী খয়রাত হোসেন ওরফে খয়রাত মাষ্টারের রেলের বাসাটি ভাড়া নিয়ে ভেজাল পশু খাদ্য ও ওষুধ তৈরি করতে থাকে সন্দীপ। তবে ওই ভেজাল কারখানার মালিক কখন আসা যাওয়া করে তা জানেন না কারখানা সংলগ্ন বাসিন্দারা।

সূত্রটি আরো জানায়, ম্যাক্স এগ্রোভিট নামের ভেজাল কোম্পানীটিতে ৪০ ধরনের পশু খাদ্য ও ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে মালিক অর্ডার বুকে প্রধান অফিস হিসেবে ৬৩/এফ (থার্ড ফ্লোর), লেক সার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫ এবং ডিপো অফিস হিসেবে চৌধুরী ভিলা, নয়াটোলা, সৈয়দপুর, নীলফামারী দেখানো হয়েছে। তবে ক্যাশ মেমোতে ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে- শাস্তি নীড়, নয়াটোলা, সৈয়দপুর, নীলফামারী। অপরদিকে ‘জাইভেট’ নামক পশুর একটি ওষুধের লেবেলে ম্যানু. লাইসেন্স নং ১২৭/১০, ব্যাচ নং এমআরকে০১ এবং ম্যানুফেকচার বাই এ্যানিমেল হেলথ ডিভিশন বাংলাদেশ রয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, ভেজাল ওইসব পশুর খাদ্য ও ওষুধ শুধু রংপুর বিভাগেই নয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত করেছে ম্যাক্স এগ্রোভিটের মালিক। সূত্রটির প্রাপ্ত ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসের একটিমাত্র (৫০ পাতার) ক্যাশ রিসিপ্ট অনুযায়ী ওইসব মালামাল ক্রয়ের উল্লেখিত ব্যবসায়ীরা হচ্ছে কুড়িগ্রামের জামিউল ইসলাম জামিল, উলিপুরের মোতাহার হোসেন বাবলু, রৌমারীর মাইদুল ইসলাম, নীলফামারীর জলঢাকার আল আমিন, ডিমলার মামুন উর রশিদ, সৈয়দপুরের হারুন-অর রশিদ, জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের আব্দুল হান্নান, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দেবনাথ ফার্মেসী, ঠাকুরগাঁয়ের মো. মিলন আলী, বালিয়াডাঙ্গীর সেবা ফার্মেসী  রংপুরের পীরগাছার সহিদুল ইসলাম, বগুড়ার মামুন রশিদ, আদমদিঘির আসাদুল্লাহ ও পঞ্চগড়ের মানিক ফার্মেসী।

এ ব্যাপারে ম্যাক্স এগ্রোভিট’র ০১৭১১৩০৩০৮৫ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে- প্রথমে মোবাইল নম্বরটি কোম্পানীর নিশ্চিত করে অপর প্রান্ত থেকে পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিকের পরিচয় দেয়া হলে অপরপ্রান্ত থেকে উল্লেখিত নম্বরটি ভূল বলে সংযোগ কেটে দেয়া হয়।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মো. রফিকুল ইসলাম সিসি নিউজকে জানান, এসব ভেজাল পশুর খাদ্য ও ওষুধ ক্রয় করে কৃষকেরা নিয়মিত প্রতারিত হচ্ছে। তিনি কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, স্থানীয় উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে যোগাযোগ করে পশুর চিকিৎসা বা খাদ্যের পরামর্শ  নিয়ে রেজিস্টার্ড ওষুধ কোম্পানীর ওষুধ ব্যবহার করুন।

তবে ভেজাল পশুর খাদ্য ও ওষুধ তৈরির ওই কারখানার মালিককে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হবে বলে একটি সূত্র সন্ধ্যায় সিসি নিউজকে নিশ্চিত করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ